কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ দিবস উদযাপিত

কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা প্রাঙ্গনে শনিবার উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশ দিবস।

এই উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় কলকাতার উপকন্ঠে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের বইমেলা প্রাঙ্গনের এসবিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা সাহিত্য ও বঙ্গবন্ধু’শীর্যক আলোচনা।

এদিনের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি বলেন, একটি ভাষাকে কেন্দ্র করে কোন ও রাষ্ট্রের জন্ম হতে পারে বা একটি ভাষার জন্য মানুষ জীবন দিতে পারে তার প্রমাণ হলো বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতা লাভের জন্য আমরা যেমন রক্ত দিয়েছি, তেমনি ভারতের সেনা সদস্যেরাও রক্ত দিয়েছে। তার জন্য আমরা চির কৃতজ্ঞ।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দুই বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি এক। জাতি হিসাবে আমরা বাঙালি। কিন্ত নাগরিক হিসাবে আমরা বাংলাদেশি আর আপনারা ভারতীয়। আর সেই কারনেই দুই বাংলার মধ্যে সীমানা।

সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের ধমনীতে এ রক্তস্রোত প্রবাহিত হয়, সেই রক্তের স্রোতে যে গর্জন, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু আমাদের ধমনীর রক্তে গর্জন তৈরি করে দিয়েছেন। নেতাজী বলতে যেমন সুবাষচন্দ্র বসু, স্বামীজি বলতে যেমন বিবেকানন্দকে বোঝায়, তেমনি বঙ্গবন্ধু বলতে শেখ মুজিবুর রহমানকে বোঝায়। দুই বাংলাতে অনেক বন্ধু ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্ত কেউই আমাদের বন্ধু নয়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সম্পূর্ণপুরুষ, তার মধ্যে কোনও দুর্বলতা বা ন্যাকামো ছিলো না।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় আগামী দিনে কলকাতা ও বঙ্গবন্ধু নামে একটি বই লেখার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, দুই বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতি ও ভাষা এক। আমাদের মধ্যে যে কাঁটাতারের বিভাজন তা মেনে নেওয়া কষ্টকর। কারন, বাংলাদেশের যেখানেই যাই না কেন, বাংলায় কথা বলতে পারি, আমি মাছ ভাত খেতে ভালোবাসি, তারাও ভালোবাসে। আমি রবীন্দ্রসংগীত ভালোবাসি, তারাও ভালোবাসে। নজরুল আমার প্রাণের কবি, তাদেরও প্রাণের কবি। রেজওয়ানা আমার প্রিয় শিল্পী, তাদের কাছেও তাই। কিন্ত তারপরেও কেন এই বিভাজন?

বাংলাদেশের সাংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে। তার ডাকে সাড়া দিয়েই শিল্পী, গায়ক, কবি, সাহিত্যিক সকলেই নিছিলে সমবেত হয়েছিলেন। ৭ মার্চ ভাষনের পর সাড়ে সাত কোটি বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো। সকলের কন্ঠে ছিলো, ‘আমরা সবাই বাঙালি, তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা।’

এদিনের এই আলোচনাঅনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক সচিব বেগম আকতারী মমতাজ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজি, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, কলকাতা বুক সেলার্স এন্ড গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ দুতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান প্রমুখ।