ঢাকায় বসেই মেজবানি খাবার পাবেন যেসব রেস্টুরেন্টে

চট্টগ্রামের বিখ্যাত খাবার হলো মেজবানি খাবার। সাধারণত আত্মীয়-পরিজনদের দাওয়াত করে তিনবেলা খাওয়ানোকে মেজবান বলা হয়। খাবারের মেনুতে থাকে ভাত, চানা ডাল, গরুর মেজবানি ভুনা, গরুর নেহারি, গরুর কালা ভুনা ইত্যাদি। মেজবানি খাবারের স্বাদ পেতে চাইলে চট্টগ্রামে না গেলেও চলবে। কারণ ঢাকার কিছু রেস্টুরেন্ট সেই সুযোগটি করে দিচ্ছে। জেনে নিন কোথায় কোথায় পাওয়া যাবে মেজবানি খাবারের স্বাদ-

চিটাগাঙ এক্সপ্রেস
চট্টগ্রামের মেজবানি খাবারের রেস্তোরাঁ চিটাগাঙ এক্সপ্রেস। রেস্তোরাঁয় বসার ব্যবস্থা আছে একশ জনের। খোলা থাকে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। দুপুর আর রাতের খাবারের সময় চাপ বেশি থাকে।

২২০ টাকায় পাওয়া যাবে সেট মেন্যু। থাকবে মেজবানি গোশত, মেজবানি ডাল, পায়া আর ভাত। এছাড়াও ছাত্ররা ১০টি খাবার অর্ডার করলে একটি পদ পাবেন বিনামূল্যে। ডেজার্টে আছে ফিরনি, দাম ৪০ টাকা। দই ৬০ টাকা। চিটাগাঙ এক্সপ্রেস রয়েছে ঢাকার গুলশান-১ ও বসুন্ধরায়।

নওয়াব চাটগাঁ
ঢাকায় বসেই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি মাংস, কালাভুনা কিংবা ডাল মাংস খাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে নওয়াব চাটগাঁ। গুলশান এক নম্বরের ১৯ নম্বর রোডে চট্টগ্রামের খাবারের এই রেস্তোরাঁ।

নওয়াব চাটগাঁ’র খাবার তৈরির জন্য গরু বাছাই করে প্রক্রিয়াজাত করে তারপর রান্না করা হয়। খাবারের মান ও পরিবেশের তুলনায় দাম নাগালের মধ্যে।

খাবারের মধ্যে সবচাইতে জনপ্রিয় মেজবানি মাংস, কালাভুনা ও লইট্টা মাছ ভাজা। বেশির ভাগ খাবারই বিক্রি করা হয় ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিন আকারের বাটিতে। মেজবানি মাংসের দাম ১৮০ থেকে ১ হাজার টাকা। কালাভুনার দাম ২৬০ থেকে ১ হাজার ৩শ’ টাকা।

এছাড়াও আছে নলার ঝোল, চানার ডাল, মসুর ডাল, সবজি ইত্যাদি। মাছ ভাজার মধ্যে আছে পমফ্রেট, লইট্টা, চিংড়ি ও কোরাল মাছ। পমফ্রেট ৩৬০ টাকা, লইট্টা আড়াইশ টাকা আর চিংড়ি ও কোরাল ২৬০ টাকা।

আছে বিভিন্ন রকম সেট মেন্যু। একজনের জন্যে হলেও অনায়াসে খেতে পারবেন দুজন। আরও আছে বোরহানী, লেমোনেইড, লাচ্ছি, ফলের শরবত ইত্যাদি। বসার ব্যবস্থা আছে ১১০ জনের। ওয়াইফাই আছে।

মেজবান বাড়ি
খোলামেলা, ছিমছাম পরিবেশের রেস্তোরাঁতে সবমিলিয়ে ৯০ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। প্রতি টেবিলের পাশে আছে টবে লাগানো গাছ। রেস্তোরাঁর কিছু অংশ খোলা আকাশের নিচে হওয়ায় রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ছাতাও রাখা হয়েছে। প্রধান ফটকের পাশে আছে একটি জুস কর্নার।

খাবারের তালিকায় আছে মেজবানি গোশত, কালাভুনা, আখনি বিরিয়ানি, চানার ডাল, নলা কাঞ্জি, মুরগি, দুরোস, আর পরাটা।

এখানে মেজবানি মাংসের দাম ১৬৫ টাকা, কালাভুনা ২৩০ টাকা, চানার ডালের দাম ৮৫ টাকা আর ভাত ২৫ টাকা। আখনি বিরিয়ানি ১৪০ টাকা। মুরগি ১৩০ টাকা।

দুরোস হলো আস্ত মুরগি। জামাই, বাড়িতে আসলে দুরোস পরিবেশন করাটা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য। এখানে দাম ৫শ’ টাকা। গরুর পায়ের হাড় থেকে তৈরি হয় নলা কাঞ্জি, দাম ৭৫ টাকা। পরোটা ২৫ টাকা। খাবার পরিবেশন করা হয় মাটির বাসনে।

এছাড়াও চট্টগ্রামের তিন নদী শঙ্খ, সাঙ্গু ও কর্নফূলি নামে রয়েছে তিনটি সেট মেন্যু। দাম ২৪০ টাকা থেকে ৩৫৫ টাকা।

ছাত্রদের জন্য আছে দেড়শ টাকার সেট মেন্যু, পাওয়া যাবে আখনি বিরিয়ানি এবং ড্রিংকস। ডেজার্টে আছে ফালুদা, জর্দা পোলাও, ফিরনি, বরফি, নারিকেলের পুডিং, লাচ্ছি ও ড্রিংকস।

দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই রেস্তোরাঁ। ধানমণ্ডিসহ ঢাকার আরও কিছু জায়গায় এর শাখা রয়েছে।

দাওয়াত-এ-মেজবান
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাবার নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডির ৫ নং সড়কে বিকল্প টাওয়ারে চালু হয়েছে দাওয়াত-এ-মেজবান নামের রেস্তোরাঁ। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে।

খাবারের মধ্যে আছে কালাভুনা, মেজবানি মাংস, চানার ডাল, নলার ঝোল, লইট্টা ফ্রাই, রূপচাঁদা ফ্রাই, মিশ্র সবজি এবং ভারতীয় ও চীনা খাবার। আছে নানা স্বাদের শরবতও।

হোটেল জামান অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউস
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হোটেল জামান অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউস সম্প্রতি ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান গেটের কাছে । চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাবারের চাহিদার কারণে ঢাকায় এই রেস্টুরেন্টের শাখা চালু করা হয়েছে।

এই রেস্তোরাঁর বিশেষ খাবারের মধ্যে আছে বিরিয়ানি, মেজবানি মাংস, কালা ভুনা, চিকেন গ্রিল, বিভিন্ন পদের ভর্তা, খাসির পায়া, নেহারি, স্পেশাল নান, স্পেশাল ফালুদাসহ আরও অনেক কিছুই। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকে এই রেস্টুরেন্ট।