কর্নেল মোঃ শহীদ উদ্দিন খান এর নানা কুকীর্তির আমলনামা

গত ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ যুক্তরাজ্যের ION TVতে সাক্ষাতকার প্রদানকারী নানা অভিযোগে চাকরীচ্যুত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল মোঃ শহীদ উদ্দিন খান এর চাকুরী জীবনে কোন খারাপ রেকর্ড না থাকার পরেও তাকে অন্যায় ভাবে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে মর্মে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাছাড়া, নিজেকে অনেক জনপ্রিয় ও সৎ অফিসার হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার বিপক্ষে কোন অনিয়ম এমনকি Moral Turpitude (নৈতিক স্খলন) এর অভিযোগ পর্যন্তও নেই বলে উল্লেখ করেন।

এতদপ্রেক্ষিতে সুপ্রিয় পাঠকদের কথা বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তথ্যানুসন্ধানে উক্ত সাফাই গাওয়া চাকরীচ্যুত সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অনিয়মের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

চাকরীচ্যুত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা কতিপয় অভিযোগের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য হতে জানা যায় যে, উক্ত কর্মকর্তার রাজশাহী সেক্টরের অধীনস্থ তৎকালীন ৬ রাইফেল ব্যাটালিয়ন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০০৪ সালের ২৮ নভেম্বর হতে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ পর্যন্ত তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তর, পিলখানা, ঢাকায় একটি কোর্ট মার্শাল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কোর্ট মার্শালে বিভিন্ন অনিয়মের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ২৮টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কতগুলো অভিযোগ সম্পর্কে সরেজমিনে অনুসন্ধানে প্রাপ্ত কিছু তথ্য পাঠকদের বিবেচনার জন্য নিচে উল্লেখ করা হলো।

অধিনায়ক হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ রাইফেল ব্যাটালিয়নে কর্মরত কালীন গত ৫ জুন ২০০৪ তারিখে একই ব্যাটালিয়নের নায়েক মোঃ আবুল কালাম ও ল্যান্স নায়েক কাজী আবুল হোসেনকে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকসহ বিডিআর ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামে বেনামী পত্রসমূহের ড্রাফট ও বিভিন্ন ঠিকানায় চিঠিগুলো প্রেরণ করার জন্য বড় অঙ্কের উৎকোচ প্রদান করেন এবং তার এহেন কুকর্ম সংশ্লিষ্ট কোন তথ্য যাতে ফাঁস হয় সেজন্য তাদের ভয়-ভীতি দেখান। এমনকি উক্ত ঘটনার প্রমাণ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক নষ্ট করে ফেলেন।

উপরে উল্লেখিত বিডিআর সদস্যদের সাথে উক্ত প্রতিবেদকের সরেজমিনে আলাপচারিতায় উক্ত ঘটনায় চাকরীচ্যুত সেনা কর্মকর্তার জড়িত থাকাসহ আরও নানা অভিযোগের বিষয়ে নিরেট তথ্য পাওয়া যায়। উক্ত কর্মকর্তা নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাকুরিস্হলের অর্থাৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এর স্থানীয় সাংসদ ও বিএনপি নেতা জনাব হারুন-উর-রশীদ এবং তার সুন্দরী স্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া’র সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। সীমান্তে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য জনাব হারুন তার স্ত্রী’র মাধ্যমে উক্ত কর্মকর্তাকে হাতে নিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া’র সাথে উক্ত কর্মকর্তার অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং বিষয়টি ব্যাটালিয়নসহ স্থানীয়ভাবে প্রকাশ পেয়ে যায়। এমনকি এ নিয়ে পাপিয়ার স্বামী হারুন-উর-রশীদের সাথে পাপিয়া ও উক্ত কর্মকর্তার বিতণ্ডার অবতারণা ঘটে। তবে, ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল ও বর্ণিত কর্মকর্তার প্রতি পাপিয়ার একরোখা মনোভাবের কারণে সাংসদ হারুন সবকিছুতে ছাড় দেন বলে উল্লেখিত বিডিআর জওয়ান ও স্থানীয় পর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা যায়। তাছাড়া, পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় বিএনপি’র অনেক নেতাকে তিনি অবৈধ সুবিধা দিয়ে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধাদি গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সাথে উক্ত চাকরীচ্যুত সেনা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় তিনি যেকোন অবৈধ কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী। এমনকি পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল চলাকালীন সময়ে সামরিক চেইন অব কমান্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে উক্ত নেতাদের প্রভাবে চলমান কোর্ট মার্শালকে বাধাগ্রস্ত করারও অপচেষ্টা করেন বলে সূত্রে জানা যায়।