বিদ্যুতের যৌক্তিক দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অযৌক্তিক হরতাল

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর যে সকল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে তার মধ্যে বিদ্যুৎ খাত অন্যতম। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ৩০০০ মেগাওয়াটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল, কিন্তু এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা প্রায় ১৬০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করে। আর সরকারেষ সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বারবার একটি মহল এই খাতের উন্নয়নকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।

এরই একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ হচ্ছে গত বৃহস্পতিবার দিন বিদ্যুৎের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার প্রতিবাদে ৩০ই নভেম্বর সারাদেশে বামদলগুলোর (সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা সহ আটটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত জোট) ডাকা হরতাল এবং তাতে বিএনপির পূর্ণ সমর্থন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর বিকেল তিনটায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বিদ্যুতের দাম বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, আর তা ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে। কিন্তু বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানো হয়নি। সেই সাথে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের নূন্যতম চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোন গ্রাহক যদি বিদ্যুৎ ব্যবহার নাও করে তাহলে তাকে ২৫ টাকা বিল দিতে হবে, যা পূর্বে ছিল ১০০ টাকা এবং নির্মাণকাজে বিদ্যুতের দাম ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এখন জনমনে একটাই প্রশ্ন কেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি। প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎ বিতরণের খরচ বৃদ্ধিই খুচরা পর্যায়ে মূল্য বাড়ানোর মূল কারণ। এছাড়াও দাম বাড়ার ফলে সরকারের আয়ও ১৭শ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে। চলতি বছরের মার্চ মাসে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পায় ৫০ শতাংশ, আর এরপর থেকেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব উঠে সমন্বয়ে ধরে রাখার লক্ষ্যে, আর এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে বাড়ানো হয় বিদ্যুতের দাম।

প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়ের দাবি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের এই উদ্যোগকে জনগণের কাছে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের জন্যই হরতালের মতো কর্মসূচির প্রদান করে অপরাজনীতির খেলায় লিপ্ত হচ্ছে।

No Comments

Leave a Comment