‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বিতর্কের স্থায়ী অবসান

কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করে একটি ভিডিও আপলোড করা হয় ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনের ফেসবুক পাতায়। বলা হয় সাবেক অবৈধ স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। সম্প্রতি বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতির এই ঘৃণিত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের জাতীয় জাদুঘরের প্রদর্শনীতে। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে জিয়াউর রহমানের ছবি। জিয়া ছিলেন কলকাতার হেয়ার স্কুলের ছাত্র। সে সূত্রে ধরে উক্ত স্কুলের বর্তমান ছাত্ররাও বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি ভুল ইতিহাসে শিখছে। এছাড়া ভারতের আগামী প্রজন্মও ভুল ইতিহাস জেনে বড় হচ্ছে, যা ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশের জন্যই নেতিবাচক।

এই বিতর্কের শুরুটা হয় বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর, ১৯৯১ সালে। তৎকালীন সময়ে এক সংসদ অধিবেশনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাংসদদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়া, আপনারা কেন দিতে পারেননি?’

মূলত জিয়াকে নিয়ে বা স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্কের অবকাশ কোন কালেই ছিল না। ১৯৯১ সালে সৃষ্ট বিতর্কের জবাব ১৯৭২ সালের সংবিধানে দেয়া হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল ঘোষণা পত্রের মাধ্যমে। সেই ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট আছে, কাজেই এ বিষয়টি নিয়ে তখনই বিতর্ক শেষ হয়ে যাবার কথা। মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এমনকি জিয়াউর রহমান তার ঘোষণায় বলেছিলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর হয়ে উক্ত ঘোষণা দিচ্ছেন।

মেজর জিয়া চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে কেবল বঙ্গবন্ধুর বার্তাবাহক হয়েই বার্তা পাঠ করেন। উক্ত বার্তা বা পরবর্তীতে বিতর্কিত ‘ঘোষণাটি’ কোনভাবেই স্বাধীনতার ঘোষণা বলা চলে না। মেজর জিয়া কোন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না বা ঘোষণা দেওয়ার মতো উপযুক্ত যোগ্যতাও তার নেই। যে ঘোষণা মেজর জিয়া দিয়েছিলেন, ঠিক এমন ধরনের একাধিক ঘোষণা ২৬ ও ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক এবং ছাত্রনেতাও দিয়েছিলেন। এমনকি বেতার কর্মীরাও একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

৭০-এর নির্বাচনের বিজেতা, জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিক, জনগণের ভাগ্য বিধাতা রূপে বাংলার জনগণ যাকে বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদান করেছিলেন, সেই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে মূলত বাঙালি জন্য স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষণা ছিলো। বাংলাদেশ নামক একটি দেশের জন্মদাতা বঙ্গবন্ধু, এবং তিনিই স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক।

No Comments

Leave a Comment