শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশের আরেকটি কূটনৈতিক বিজয়

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবশেষে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে মিয়ানমার। গত ২৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোয় দেশটির রাষ্ট্রীয় পরামর্শক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চির দলীয় কার্যালয়ে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা কার্যালয়ের মন্ত্রী কিয়াউ তিন্ত সোয়ে চুক্তিতে সই করেন। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকলেও ধারণা করা হয় দুই মাসের মধ্যেই এই ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই চুক্তি অনুযায়ী গত ৯ই অক্টোবর ২০১৬ থেকে বর্তমানে আসা সকল রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার।

রোহিঙ্গাদের শুধু ফিরিয়ে দেয়াই নয়, মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার ব্যাপারেও বাংলাদেশের সঠিক পদক্ষেপের ফলে আশ্বাসব্যক্ত করেছে মিয়ানমার। এছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল তৈরির জন্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীন ও ভারতকে প্রস্তাব করা হয়েছে। এবং ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সৌজন্যতাসরুপ উক্ত প্রস্তাবে রাজী হয়েছে চীন ও ভারত। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে এটিও বাংলাদেশের জন্যে আরেকটি বড় সফলতা, যা অতীতের সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই চুক্তির খবরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দারা খুশিতে মেতে উঠেছে। বিশেষ করে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা উখিয়া-টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে মানুষ সমঝোতা চুক্তি সাক্ষরের খবরে আনন্দ-উত্সবে মেতেছে। কুতুপালং শিবিরের লম্বাশিয়া এলাকার বাসিন্দা রোহিঙ্গা সাবের আহমদ (৪৫) জানান, ‘বাংলাদেশ আমাদের জন্য অত্যন্ত আন্তরিক ছিল বিধায় এত দ্রুত এরকম একটি চুক্তি সাক্ষর করতে পেরেছে। তাই আমরা বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই’।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এই কূটনৈতিক বিজয় এসেছে বাংলাদেশের। এর শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তির মধ্যে দিয়ে। এর মধ্যে দিয়েই পানির ন্যায্য হিস্যা পায় বাংলাদেশ। পরে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই। পাহাড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতি টানে এই শান্তিচুক্তি। এছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়েও শান্তিপূর্ণ সমাধান হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই। পরে ভারতের সঙ্গেও সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের কূটনৈতিক সমাধান পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলা ছিটমহল বিনিময় চুক্তিরও বাস্তবায়ন হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। বাংলাদেশের আয়তনে যুক্ত হয়েছে নতুন ভূমি।

এই বিজয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। চিরঞ্জীবী হোক বাংলাদেশ।

No Comments

Leave a Comment