একজন শেখ হাসিনা- মাদার অব হিউম্যানিটি থেকে বিশ্বের তৃতীয় সৎ সরকারপ্রধান

পানামা পেপারস আর প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে যখন বিশ্বের সব নেতারা ভেসে যাচ্ছেন দুর্নীতির জোয়ারে, তখনও অভিন্ন পথেই হাঁটছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই জয়যাত্রার মূল্যও পেয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ‘পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস’ নামক একটি বিদেশী সংস্থার জরিপে শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের তৃতীয় সৎ সরকারপ্রধান। এই সংস্থাটি বিশ্বের ৫ জন রাষ্ট্র নায়ক কে চিহ্নিত করেছেন, যাদের আজ পর্যন্ত দুর্নীতি স্পর্শ করেনি। বিদেশে কোন ব্যাংক একাউন্টে কালো টাকার পাহাড় নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। এই ৫ জন সরকার প্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্ব রাজনতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস’ সম্প্রতি একটি জরিপ চালিয়েছেন বিশ্বের সৎ নেতাদের সন্ধানে। পাঁচটি প্রশ্নের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে এই সততার মান বিচার করা হয়েছে। প্রথম প্রশ্ন ছিল, রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে তিনি তার রাষ্ট্রের বাইরে কোন ব্যাংকে একাউন্ট করেছেন কিনা। দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিলো ক্ষমতায় আসীন হবার পর তার ব্যক্তিগত সম্পদ কতটুকু বেড়েছে। তৃতীয় প্রশ্ন ছিল গোপন সম্পদ করেছেন কিনা। চতুর্থ প্রশ্ন সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা, আর শেষ প্রশ্ন ছিল দেশে জনগণ তা সম্পর্কে কী ভাবেন।

এই পাঁচটি প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে উক্ত সংস্থাটি ১৭৩টি দেশের সরকারপ্রধানের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লং তালিকায় দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন। আর এই দুজনের পরেই তৃতীয় স্থানে আছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। উক্ত জরিপে দেখা গেছে শেখ হাসিনার বাংলাদেশের বাইরে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। মূল বেতন ছাড়া শেখ হাসিনার অতিরিক্ত সম্পদেরও কোন সংযুক্তি নেই। বাংলাদেশের ৭৮ ভাগ মানুষ মনে করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সৎ এবং ব্যক্তিগত লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে।

বিশ্বের তৃতীয় সৎ নেতার মনোনয়ন পাবার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে জীবনবাজি রেখে মানুষের জন্য কাজ করি। টাকা পয়সা আছে কিনা তা কখনো চিন্তা করিনা’। ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনও দিন যায় যে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। যখনই কাজ আসে তখনই কাজ শুরু করতে হয়। এই কাজগুলো আমি করি মনের টানে। আমার বাবা এ দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, তার স্বপ্ন সফল করাই আমার লক্ষ্য’।

বাবা-মা, ভাই-ভাবী আর আপনজন হারানো একজন মানুষ প্রতিনিয়ত নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছে জনমানুষের কল্যাণে। ইতিহাস বলে ভালো কাজের মূল্যায়ন বৃথা যায় না কখনো। এই মূল্যায়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে অনেক দূর। মাদার অব হিউম্যানিটি থেকে বিশ্বের তৃতীয় সরকারপ্রধান হওয়ার সফলতা- আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে যায় বারবার।

No Comments

Leave a Comment