সহায়ক সরকারের অজুহাতে জাতীয় নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় বিএনপি

আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ‘সহায়ক সরকার’ ইস্যুতে নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে দেশের রাজনীতির মাঠ। নতুন ইসি গঠনের পরপরই এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে রাজনীতির মাঠ পেরিয়ে অন্দরমহলেও। চায়ের কাপে কিংবা রঙিন পানির আড্ডায় উঠে আসছে ‘সহায়ক সরকার’ ইস্যুটি। পূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ছিল বিএনপির। পরে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করে দলটি। কিন্তু সহায়ক সরকারের রূপরেখা কী ধরনের হবে তা নিয়ে একাধিক খসড়া হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দলটি। সহায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরি করতে গিয়ে এখন তত্ত্বাবধায়ক এবং সহায়ক সরকারের মধ্যে কোন পার্থক্যও দেখছেন না তারা। তাই নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা সরকারের কাছে কবে উত্থাপন করা হবে তা বলতে পারছেন না দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

গত বুধবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে ২০ দলীয় জোটের নেতারা সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবী করে। তবে এর পাশাপাশি, রংপুরসহ ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও যেতে চায় বিএনপি। সহায়ক সরকারের দাবি না মানলে নেতাকর্মীদের রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

প্রধান বিচারপতিকে কিনার পর এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কেনার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। আর সে লক্ষেই সংবিধানের পরিপন্থী একটি বিষয় নিয়ে বিএনপি তার তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে বিশৃঙ্খলার বিষ, যা দেশের মানুষের জন্য বয়ে আনবে অশান্তি বৈকি আর কিছু নয়। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচেন যাওয়ার কথা থাকলেও দলীয় সরকার তথা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সব নেতারা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুঃসময়ের স্মৃতি বাংলাদেশের বুক থেকে এখনো মুছে যায়নি। এর মধ্যেই বিএনপির নতুন আন্দোলনের ইস্যু সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। দেশের সংবিধান যখন বলছে নির্বাচন হবে দলীয় সরকারের অধীনে, তখন দেশের অন্যতম একটি দল দাবি করে যাচ্ছে সহায়ক সরকারের। বিএনপির মনে আসলেই নির্বাচন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা তাই এখন সন্দেহের বিষয়। গত নির্বাচনের মতো এবারও হয়তোবা নির্বাচনে অংশ না নিয়ে পরবর্তীতে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় বিএনপি। যা সরাসরি ভাবেই সংবিধানের লঙ্গন। সংবিধানের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা সাধারণ মানুষের দাবি, সহায়ক সরকারের দুঃসময় দেশের মানুষ আর চায় না।

No Comments

Leave a Comment