সংখ্যালঘু নির্যাতনে মদতদান: বিএনপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ

গত ১০ই নভেম্বর রংপুরের পাগলাপীরের ঠাকুরপাড়া গ্রামে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে হিন্দু তথা সংখ্যালঘুদের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে আগুন দেয় হাজারো মানুষ। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে প্রমাণ হয় এই হামলার পেছনে সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে তাদের উস্কে দিয়েছিল স্থানীয় জামায়াতের দুই নেতা। পুলিশ জানায় এ ঘটনার মূল হোতা ও উস্কানিদাতাদের একজন জামাত নেতা ও মসজিদের ইমাম সিরাজুল ইসলাম।

স্থানিয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান ও সেলিম মিয়া জানান, ঈমাম সিরাজুল ইসলাম বেশিরভাগ সময় মসজিদে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করতেন। ঈমাম সিরাজুল ইসলাম সম্পর্কে আরও জানা যায় প্রকৃত অর্থে তিনি একজন ঘোরতর বিএনপি-জামায়াত পন্থী।

গত ২০ নভেম্বর সোমবার রংপুরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে সংখ্যালঘু নিরাপত্তাহীনতায় থাকে এবং তাদের উপর বেশি হামলা হয়’। যেখানে উক্ত হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিএনপি জোটের অংশ জামায়াতের নেতারা পুলিশের কাছে আটক, সেখানে ক্ষমতাসীনদের দোষ দিয়ে বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্য সত্যি হাস্যকর!

সাধারণ মানুষ মনে করছে কক্সবাজারের রামু, নাসরিনগর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় উপাসনালয় হামলাগুলোর সব একই সূত্রে গাঁথা। আওয়ামী লীগ মনে করছে একটি রাজনৈতিক মহল আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করতে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে এই হামলা করছে। এছাড়া বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সুসম্পর্ক নষ্ট করার জন্য বিএনপি জামাত জোট পরিকল্পিতভাবে এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলো সৃষ্টি করছে।

বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে, অর্থাৎ ২০০১ থেকে ২০০৬ এর সময়টা ছিল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের কালো অধ্যায়। তৎকালীন সময়ে যারা নৌকায় ভোট দিয়েছিল সেইসব সংখ্যালঘুদের প্রত্যেকেই নিপীড়িত নির্যাতিত হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার পূর্ণিমা রানীর মায়ের আকুতি, ‘বাবারা তোমরা একজন একজন করে আসো, আমার মেয়েটা ছোট’- এখনো মুছে যায়নি এ দেশের ইতিহাস থেকে।

No Comments

Leave a Comment